Category Archives: Memoirs or Fiction?

“আহ! চুপ কর। ফোন-টোন কিচ্ছু করতে হবে না। “, বলেই গাড়ীর জানালায় মুখ সেঁটে বসে গেল।  আমিও তত সময়ে বদ্ধ কালা, বাইরে আকাশ, সামনে পাহাড়,প্রাণে তখন বর্ষাকালে বসন্ত-বাহার। ব্যাগে সাত দিনের ছুটি-হটাৎ পাওয়া।  তিন দিন রাস্তায়- হাতে রইল চার, তাই “পথে এবার নামো সখা”; ভাগ্যি ভাল, ‘অফ সিজ্যন ‘, তাই মাফলার জড়ানো-ফ্লাক্স বগলে জনস্রোতে  ভাঁটা। রাস্তার দুপাশে ‘ফুডিং এভেলেবেল’ ধাবায় ফাঁকা চেয়ার টেবিল, যেন মেলা খুলেছে, কিন্তু জমে উঠতে এখনো দেরি। রাস্তায় পাহাড়ি পোশাকে ঝলমলে বাচ্ছা, আপেল টুকটুকে গাল, গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাহাড়ি বুল্বুল।

গাড়ী পাহাড় বেয়ে চলেছে কুমায়নএর দিকে। আমি তাল গুনি, চৌদ্দ মাত্রা- আমির খান গেয়ে যান “পরান কোয়েলিয়া কুকো রহি”; ধিন -নাউকুচিয়া তাল, ধা-ভীম তাল।  সারথী বাবু বলে ওঠেন,” বাকি লৌটনে কে টাইম।” আমরা নামি একটা ছোট্ট কাঠের ঘরের সামনে, বাইরে টেবিল পাতা, গাছের গুঁড়ির তৈরী। খিদেয় পেট চুঁই -চুঁই। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখি গরম পরোটা ভাজা হচ্ছে। খদ্দের আমরা ছাড়া আরেক দল। ”ফরেনোর”, বলে উঠলেন আনন্দ-জী।  ঘুরে দেখি ঢাউস ক্যামেরা নিয়ে গাছে জড়ানো কুমড়ো লতার ছবি তুলছে। ফুলে ভর্তি। দিম্মা পোস্ত-বাটা মাখিয়ে মুচমুচে করে ভেজে দিতেন, সাথে ঘি-ভাতে। মাখন দেয়া পরোটা চিবোতে চিবোতে পোস্ত-বাটার কথা ভাবি। ধোঁয়া ওঠা ঘি-ভাত, কাঁচা লঙ্কা আর গর্মা-গ্রম দহি-পরোটা-তুলনাটা গুছিয়ে তোলার আগেই দেখি পাশের ভদ্দরলোক শেষ টুকরো মুখে পুরছে। তেল জবজবে হাত টা পাঞ্জাবি তে মুছে ফেলেই এক গাল হাসি-

-ছুটি চলছে কিন্তু

-জাহান্নামে যাও। আমি মনোযোগ দিয়ে পরোটা চিবোই। পাশে কমলা-হলুদ কুমড়ো ফুল। আনন্দ জী  শুনি তখনও বলছেন,”অর এক লাও”, মুখে স্বর্গীয় আনন্দ। পোস্ত-মাখা কুমড়ো ফুলের স্বাদ যদি জানতো!

“অর দো ঘন্টে মে মুক্তেশ্বর পৌঁছ জায়েঙ্গে।” রাষ্ট্র-ভাষায় আমাদের অভয় দেন করে আবার যাত্রা শুরু হলো।

গান চলছে, পুরোনো হিন্দি গান, কাশ্মীর কি কলি। গুনগুনিয়ে উঠতে গিয়ে থেমে যাই। যেন এক জগ আগের কথা।  মায়ের হাত ধরে, বাড়ীর পাশেই দিদির বাড়ী-গানের দিদিমণি। শখ মায়ের, উৎসাহ আমার।

রবিবার সকাল- দিদি রান্নাঘরে শাক কাটেন, আমি হারমোনিয়ামে সা রে গা রে সা সাধি। তেলে ফোড়ন পড়ে, দিদি ভূপালি শেখান – মা নি বর্জিত। খাতা দেখে সাদা কালো রীডে সুর খোঁজার চেষ্টা করি। আরোহে দিদি হাত ধরে নিয়ে যান।  অবরোহে একাই  নামি, পা ফস্কে যায়। দিদি এসে পাশে বসেন। সাদা চুল, সাদা শাড়ী, হাতে হুলদের ছোপ।  ভুল করি বারবার, দিদি হাসেন, বলেন, “বাড়ী গিয়ে রেওয়াজ করবি।” আমি বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ি। কোনো কোনো রবিবার দিদির ছেলে রাজু দাদা নেমে আসে,”মায়ের রান্না হতে হতে আমার সাথে চল। ” ভয়ে ভয়ে সিঁড়ি ভাঙি , কাঠের পুরোনো সিঁড়ি , বড্ডো উঁচু। ওপারে অন্য জগত। সেতার , তানপুরা, “ওটা কি?”, রাজু দাদা চিনিয়ে দেয়, ‘সুর মন্ডল।’

-”তুমি পড়াশোনা করো না?” তারে ভয়ে ভয়ে আঙ্গুল ছুইয়ে জিজ্ঞেস করি।

-”এই তো, করছি। ” একটা একটা সুর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে , ঘর থেকে বারান্দা, বারান্দা থেকে বাগান, বাগান থেকে রাস্তা পেরিয়ে যেন আমাদের বাড়ি পর্যন্ত ভেসে যায়।

-“ধুর। এটা  তো গান। তোমার স্কুল নেই? হোমওয়ার্ক নেই?”

সেতারে তার বাঁধতে বাঁধতে হাসি ছড়িয়ে উত্তর, ” হোমে বসে করছি, এই তো আমার হোমওয়ার্ক”, অকাট্য যুক্তি।

দিদি উঠে আসেন, হাতে নারকেল নাড়ু। এবার দেশ রাগ, সুর ঠিক হলে দুটো নাড়ু।একটাও মেলে না।  মন খারাপ করে নাড়ু খাই, দুটোই।

-রেওয়াজ করিসনি?

মাথা নিচু করে ঘাড় নারি।

-কোলে টেনে বোঝান,”না করলে শিখবি কি করে”

দিদি চেষ্টা করে যান। পারেন না। অসুর থেকে ‘অ’ আর বাদ পড়ে  না।  দেশ থেকে কষ্টে- সৃষ্ঠে দূর্গা।

একদিন রাজু দাদা ডেকে বলে, “আমরা শিলচর থেকে চলে যাচ্ছি রে।” ততদিনে বুঝেছি যে চলে যাওয়ার মানে আর ফিরে  না আসা।  দিদি নারকেল নাড়ু খাওয়ান। মাথায় হাত দিয়ে বলেন,”চেষ্টা করিস , ফাঁকি দিসনে আর।  হোমওয়ার্ক দেয়া থাকল তোকে।” মিথ্যে হাসি, জানি পারবো না। কান্না চেপে পুকুর ধার ধরে একা বাড়ী  ফিরি। হারমোনিয়াম খাটের তলায় ধুলোয় ঢাকা পরে।  ফাঁকি দিয়ে লেখাপড়া হয়, গান নয়। তাই ঠোঁট টিপে গলা মেলাই ,” তারিক ক্রু ক্যা উস্কি, যিসনে তুঝে বানায়া।” শহর ছেড়ে গাড়ি আরো উপরে যায়। আনন্দ বাবু গাড়ী থামান, গান বন্ধ হয়। নেমে খাদের ওপারে আঙ্গুল তুলে দেখান- রোদ ঝলমলে হিমালয় ! ‘অফ স্যিজন মে সবকো নসিব নেহি হোতা।” দুজনের চোখে মুগ্ধতা , এত কাছে! আনন্দ বাবু হেসে ওঠেন, ঠিক যেমন দিদি হাসতেন ,সুর চিনিয়ে দিয়ে।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Memoirs or Fiction?

রাত গভীর হওয়া শুরু করলে ব্যস্ততা বেড়ে যায়, ঠিক  যেখানে রাস্তা  মোড় নিচ্ছে, সেখান টায়। কয়েক টুকরো জড়ানো সংলাপ ভেঙে ছড়িয়ে পড়ছে  একদিক ওদিক। আশে পাশের বাড়ির জানালার আলো সরল রেখার মত একমাত্রিক হয়ে তটস্থ।পাশের নালায় হটাত হড় হড় করে কিছু একটা পরে যায়, দুর্গন্ধ ঘুরপাক খায় চারদিকে। একটা নিষ্প্রভ আলোয় দেখা যায় রক্তের শীর্ণ ধারা কাঠের পাটাতনের উপর থেকে ছড়িয়ে যায় আস্ফাল্টের উপর। ঘেয়ো কুকুরটাও তা তে মুখ দেয় না, একবার শোঁকে ফিরে গিয়ে আলোর নিচে বসে থাকে।
একটা রোগা লোক টলতে টলতে বেড়িয়ে আসে, চাঁদের আলোয় মুখটা জলে ভেসে আসা মৃতদেহর মত ফ্যাকাশে। একটা হাসির হুল্লড় উঠে আসে রাস্তায় বসে থাকা ছায়াগুলো থেকে,ঘুরপাক খেতে খেতে থাকে। মাঝে মাঝে কয়েকটা জানালা খুলে যায়, ছিটকে বেরয় কিছু আওয়াজ, হিন্দি গান, ঝগড়া, কখনও বা হাঁক ডাক, নতুন লোকের জন্য।

মোড়টা পেরিয়ে একটু এগিয়ে গেলেই বড় রাস্তা। বড় বড় বাড়ি।খোপ খোপ বারান্দা বলে দেয় এখানে অনেক গুলো পরিবারের ঠিকানা। জানালা দিয়ে চোখে পরে রান্নাঘরের  ব্যস্ততা। টি ভি তে চলতে থাকা সিরিয়েল, রাত ন’টার খবর, বাচ্চার চিৎকার, সব কিছু  রঙ উঠে যাওয়া পর্দা ঠেলে বেরিয়ে আসে। হতশ্রী গাছের টব, বারান্দার রেলিং এ নেতিয়ে থাকা শাড়ি। বিকেলে ধুয়ে দেয়া বোধহয়। দূর থেকে ঠেকলে, দাবার ছক মনে হয়  বাড়িটা কে। কিছু  জানালায় ফটফটে আলো, কয়েকটায় মিট্মিটে হলদে বাল্ব, কোনটা বা নিকষ অন্ধকার। জানালা দেখেই বলে দেয়া যেতে পারে যে কার আয় কেমন, কার মাসের শেষে হিসেবে করতে হয়, কার নয়।

মোড়ের এপারে আর ওপারে অনেক ফারাক। আর লোকেরা সেই ফারাকটা স্বযত্নে মেনে চলে। সকালে যখন  বড় রাস্তার বাড়িতে  শুরু হয় চায়ের টুং-টাং, কলের জল, কোলের বাচ্চার ঝামেলা, ওই দিকে তখনও সব শান্ত, ঘুম ভাঙার সময় হয়নি ওদিকে তখন। ওদিকে যখন ধীরে ধীরে জানালা খোলা শুরু হয়, এদিকে তখন ভাত, ডাল , মাছের ঝোল এর পর্ব প্রায় শেষ। আর দুপুর নামতে নামতে ফারাকটা আরো বেশি বোঝা যায়, একদিক যখন দ্বিপ্রাহরিক ক্লান্তি তে ঝিমোয়, অন্যখানে তখন দিন শুরুর ব্যস্ততা।

এভাবেই চলে, পাশা-পাশি, কিন্ত  দূরত্ব বজায় রেখে। অনেকেই ভাবে, আরেকটু মাইনে বাড়লে এবার একটা ভালো জায়গা দেখে উঠে যাওয়া উচিত। তারপর মাসের শেষ, হিসেবের চাপে সব চাপা পরে যায়। এদিক সন্ধ্যায় শাঁখ বাজে, ওদিকে ভীড় জমা শুরু হয়। তারপর, আরো রাতে যখন মোড়ের মাথার পানের দোকানটা  বন্ধ হয়, তখন এই দুটো সমান্তরাল পৃথিবী এক মুহূর্তের জন্য একে  অপরকে ছুঁয়ে যায়। ওদিক থেকে ধাক্কা মেরে বের করে দেয়া এক জোড়া পা টলতে টলতে এসে এবাড়ির দরজায় দাঁড়ায়,পায়  যত্নে বেড়ে দেয়া গরম ভাত। তারপর সেখানেও অন্ধকার নামে।

Leave a comment

Filed under Memoirs or Fiction?

ভাসা ভাসা ভাষা

“এক দেশে এক রাজা ছিল।রাজার হাতি-শালে হাতি, ঘোড়া-শালে ঘোড়া”- আমাদের ছোট বেলার শুরু এভাবেই। রাজপুত্র-কোটালপুত্র, তেপান্তরের মাঠ, সেই মাঠ পেরোলে রাজকন্যা; সেই কুচবরণ কন্যা যার মেঘ বরণ কেশ। আর সেই মেঘ-বরণ কেশের গল্প পড়তে পড়তে অপেক্ষা করা কবে নিজেরও এমন মেঘের মত চুল হবে। বলা হয়েছিল, “বড় হও, তারপর হবে।” বড় হওার অপেক্ষা করতে করতে পড়া হল লালকমল আর নীলকমল, ব্যাঙ্গমাব্যাঙ্গমী। বাড়ীর আম গাছে দুপুরবেলা একটা কাক এসে বসত, আমার দীর্ঘ দিনের বিশ্বাস ছিল সেই কাক তাই ভুশুণ্ডির কাক। তারপর, হটাত একদিন দেখলাম যে সেই রাজা-রানি, পক্ষিরাজ, ঢাল-তলওয়ার আর ভাল লাগছে না। অন্য কিছু চাই, নতুন কিছু। নীল মলাটের দক্ষিণারঞ্জনের জায়গা নিল প্রোফেসর হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি। শিখলাম যে পইতে-ওয়ালা বামুন মরলে বেল গাছে পা ঝুলিয়ে বসে ব্রহ্মদৈত্যিইকরে, বাঁশ-ঝাড়ে পেত্নী থাকেবেই হবে, আর ইলিশ মাছ রান্না হলে মেছো-ভুত বা মামদো-ভুত না এলে বুঝতে হবে যে ভুত-সমাজে বিশাল কিছু গণ্ডগোল বেঁধেছে।

সেই, “কিশোর ভারতী” আর “দেব সাহিত্য কুটির” গুলে খাওয়ার সময় পুরো ব্যাপারটা নিয়ে কিছু ভাবিনি। বাড়িতে মুর্গীর মাংস রান্না হলে ঠ্যাং টা আমার পাতেই পরবে, এটা যেমন স্বাভাবিক, পুরো ব্যাপারটা তখন তেমনি ছিল। বাছ-বিচার না করে হাভাতের মত পড়ে যাওয়া, হজম হোক, বা বদহজম। আমরা সবাই তাই করে গেছি। ভাবিনি, ভাবার দরকার পরে নি। আর পুরো ব্যাপারটায় , বাপ মায়ের অবদান? সেটা যেন কোন বিষয়ই নয়! বই ত কিনে দিতেই হবে। আর শুধু দিলেই হবে না, খাওয়ার টেবিলে ঠ্যাং চিবোতে চিবোতে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে সেই গপ্পের বই নিয়ে জাবর কাটতে হবে।

ইদানীং, নানান ঠ্যালায় পরে ভাবতে হয়, ভাবা প্র্যাকটিস করতে হয়। হটাত দেখা যায় স্কুল কলেজে বাধ্যতামুলক “হিন্দি পাখওয়াড়া” শুরু হয়। শোনা যায় হিন্দি নাকি আমাদের রাষ্ট্রভাষা। ভাষা থেকে  ধীরে ধীরে রাষ্ট্র বড় হতে থাকে। ভারতের আদমসুমারির হিসেবে, দশ হাজারের কম লোক একটা ভাষা বললে সেটা আর ভাষা থাকে না, আমদের রাষ্ট্রের কাছে সেই ভাষা, সেই ভাষিক লোক হয়ে পরে অপাংক্তেয়। এভাবে দিনের পর দিনের এক একটা ভাষা হারিয়ে যায়, কথা বলার লোকের অভাবে। বিজ্ঞ লোকেরা বলেছেন যে একুশ শতকের শেষে বিশ্বের ৪৬% ভাষা মৃত হয়ে যাবে। আমাদের কাছে এই সংখ্যা গুলো নিতান্তই মূল্যহীন, স্রেফ সংখ্যার জোরে বাঙ্গালিরা এখনও অনেক দিন টিকে থাকব। কিন্ত,এ দেশে, ভয়টা অন্য জায়গায়।  দক্ষিণ আফ্রিকার নোবেল জয়ি এক লেখক একটা বিখ্যাত উপন্যাসের শুরুতে তে লিখেছিলেন যে ভাষার জন্ম নাকি সুরহীনতা পুরন করার জন্য।  একটু কান পেতে দেখুন, ভাষা গুলো কেমন পাল্টে যাচ্ছে না? সব দিকে শোরগোল! না, সরকারি খরচে ‘হিন্দি -হিন্দু-হিন্দুস্তান’ পোঁ  এর কথা বলছি না। আমাদের রোজের কথাগুলো তে অকারণ খিচুড়ি রাঁধছি রোজ, তাও আধ-সেদ্ধ। বাংলাটা ইংরেজি , ইংরেজি টা হিন্দি, কার ঘাড়ে ক্যা চাপছে,  ঘাড়ই জানে। আর এই ভাষার বেসুরো ঐক্যতান আমাদের উদাসিন করে তুলছে যাবতীয় ভাষার সৌন্দর্যবোধের প্রতি। প্রেমচন্দের ভাষায় কুরুচিকর গান যেমন কানে লাগে না, তেমনি অম্লান বদনে আমরা শুনে যাই ‘হ্যান্ডরেড পারসেন্ট লাভ, লাভ”, লাভ ক্ষতির হিসেব ছাড়াই। ইংরেজি চার-অক্ষরের শব্দ হয়ে ওঠে আমাদের ভাষিক ক্ষমতার একমাত্র মাপকাঠি। “লজ্জা, ঘৃণা ভয়, তিন থাকতে নয়” এই কথাটা আত্মস্থ করে ‘রোম্যান্টিক’ এর বাংলা করি ‘রোমাঞ্চিক’,  নিরাভরণ হয় নিরাবরণ।

ভাষার অধিকার চিরকাল রাষ্ট্রের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ৫২’র আন্দোলন জন্ম দিয়েছে এক নতুন দেশের, অকল্পনিয় রক্তপাতের বিনিময়ে। ৬১’র আন্দোলনে আমাদের জন্য নিশ্চিত করেছে বর্ণ-পরিচয়ের অধিকার, এবারও রক্তাক্ত। তারপর আবার ১৯৮৫,আবারও রক্ত। ওরা পেরেছিলেন, আমরা পারব?

 

 

 

Leave a comment

Filed under Memoirs or Fiction?

জলো বিষয়

বাইরে ঝড় চলছে। তুমুল হাওয়া আর তার সাথে উপুস-ঝুপুস বৃষ্টি। আবার কখনও বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে উকি দিচ্ছে মিটমিটে তারা। আমি জানালায় বসা, হাতে চা, গায়ে লেপ আর পাশে পোশাকি মন-খারাপ। পাহাড়ের বৃষ্টি নাকি খুব সুন্দর হয়। দেখার চেষ্টা করছি, কিন্তু বার বার মনে পরছে আমার বাড়ীর জানালায় আসা বৃষ্টির কথা। ঝম ঝম করে টিনের চালে পরা বৃষ্টি। দোতালায় আমার পড়ার টেবিলের পাশে জানালা। জানালার বাইরে ছিল মায়ের লাগান কৃষ্ণচুড়া গাছ। সে আরেক আজব গাছ। দেখতে বিশাল, পুরো গাছ তলায় নিয়ম মেনে পাতার কারপেট সাজিয়ে রাখে, মাথায় বাড়তে বাড়তে গলির উপর কাটাকুটি খেলা তার গুলো কে ছুয়ে দেয়, কিন্তু বছর ঘুরে যায়, একটাও ফুল ফোটে না। মে মাসে চার দিক যখন লালে লাল, আমাদের বাড়ীর সেই গাছটা তখনো সবুজ হয়ে বসে থাকত, শীত এলে বড়জোর পাতায় হলুদের ছোপ, কিন্তু ের বেশি রঙ বদলে বড্ড অনীহা। বর্ষা এলেই একবার করে গাছ কাটার হুজুগ উঠত। নিতান্তই আমার কান্নাকাটির ভয়ে প্রত্যেক বছর সেই অকর্মা গাছটা বেঁচে জেত। তবে ইলেক্ট্রিসিটি বোর্ডের লোকেরা নিয়ম মাফিক এসে মই নিয়ে মাথা মুড়িয়ে যেত, তাঁদের মতে আমাদের পাড়ার সব আলোক-বিভ্রাটের দায় ওই গাছটার! এই অপবাদ মেনে নিয়েছে, কিন্তু তাও একটাও ফুল ফোঁটাতে দেখিনি। আমার আনন্দ ছিল রাতে ঘুমনোর সময় মশারির ছাতে ওই ঝিরি ঝিরি পাতার আলো হাওয়া ছবি।

তারপর? তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। সেই নড়বরে দোতালা বাড়ি আর নেই। সেখানে একটা বেশ মানানসই একতলা ঘর। সামনে বেশ কিছু ফুলের গাছ। প্রতিবারই যখন বাড়ি যাই, দেখি যে ছোট ছোট টবের গাছ গুলোও ফুলের ভারে নুয়ে আছে। স্যাতস্যাতে পচা পাতার কার্পেটের জায়গায় ঝকঝকে সিমেন্টের উঠোন, মরচে পড়া তার দিয়ে বাঁধা বাঁশের বেড়ার জায়গায় হাল্কা হলুদ রঙ্গা পাঁচিল, তাতে মেরুন গ্রিল বসানো। এখন আর হাতে শামুক লেগে যাওয়ার ভয়ে সতর্ক হয়ে গেট খুলতে হয় না,  বৃষ্টি নামলে ইট  পরে ইট বসিয়ে রাস্তা বানাতে হয় না। দুদিন পর পর লোক লাগিয়ে হটাত গজিয়ে যাওয়া কচুঘেঁচুর জঙ্গল পরিষ্কার করাতে হয় না। আগে শীত যেতে না জেতেই বর্ষা নামত, আর বর্ষা নামলেই শুরু হত রেডিও তে খবর শোনা, এই নদীর জল বাড়ল বলে, বিপদসীমার কত টা নিচে, কালীবাড়ি চরে কি জল উঠে গেছে? আমার কাছে তখন বন্যা মানে ছুটি, স্কুল যাওয়া নেই; উপরতলার তিনটে ঘরে সবাই মিলে পিকনিক করা, বারান্দায় রান্না-বান্না। বাঁশের ভেলায় উঠে জল পার করে বাজার যাওয়া আর বারান্দা থেকে চেঁচিয়ে আশে-পাশের বাড়ীর সাথে গল্প করা।

আরেকটু বড় হওার পর যখন ‘ফ্লাড’এর জলের সাথে ভেসে আসা দুর্গন্ধ বুঝতে শিখলাম, ততদিনে সেই কাঠের দোতালা, অজস্র ঘুণের গুড়ো, প্রত্যেক বছর রাতে জল ঢোকার চিন্তা, এই সব থেকে মজা উধাও হয়ে জায়গা নিল মেজাজ খারাপ। আর সেই মেজাজ খারাপ থেকে মন খারাপ, জল নামার পর থিকথিকে কাঁদা, মরে যাওয়া সাপ ব্যাং ,বহুদিন বাড়ি ময় লেগে থাকা আঁশটে গন্ধ আর আমার নাক মুখ বন্ধ করে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা। ততদিনে পুরনো বাড়ীর পেছনে নতুন ইমারত তৈরি করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। ঠাম্মার  সুপুরি আর নারকেল গাছ কাটা পড়েছে, একটা টক কুলের গাছ ছিল, সেটাও গেল। ততদিনে আমি  স্কুল শেষ করে বাড়ীর বাইরে। নতুন বাড়ীর বারান্দায় উঠে বলেছিলাম যে ‘এবার আবার ফ্লাড হোক।বারান্দায় দাঁড়িয়ে জল দেখব’। গেটের পাশে গোলাপি কাগজি ফুলের ঝাড়। নতুন রঙের গন্ধে তখন ঝিমঝিমে নেশা।

তারওপরে, যখন সেই আধ-ভাঙ্গা বাড়ি আর শুধু পাতাওয়ালা গাছের কথা ভুলে যাওয়ার কথা, তখন ঘর বললেই ভেসে উঠে কাঠের মেঝে, তক্তার খাঁজ-যেখানে চোখ রাখলেই দেখতে পেতাম নিচের ঘরের সব কিছু, বারান্দায় দাঁড়িয়ে আঁকশি দিয়ে কুল পারা, আর রাজ্যের হাবি-জাবি সব। মেঘ কাটলে বুঝতে পারি যে স্মৃতি এমনি জিনিস যা উচ্ছে ভাজা কেও বিরিয়ানি বলে চালাতে পারে। তাই পাইন দেখলে মনে হয়, আহা আমার কৃষ্ণচূড়া; পাঁচিল দেখলে মনে হয়,’আহা রে, সেই বাঁশের বেড়া’।

 

Leave a comment

Filed under Memoirs or Fiction?

“When the evening is spread out against the sky”

 

A walk though the winding lanes of a congested town.The cars, the buses, the horns , the dust. Black smoke coils upwards from the red buses. Twilight gets stuck in the church steeple. People are going home, most people are going home. A few unsteady footsteps pass by. Lamps start lighting up near by and bulbs faraway. In some places, naked bulb hangs limply from a twisted red and black wire. Yellow light lights up the cucumbers and lettuce. A lady bends down, with carefully holding her jimsem, to touch the carrots and lemons. Blood collects in the plastic bag having pork wrapped in the banana leaf. The kid who sits with banana spread over the upturned basket, looks on.

Bells tinkle by as jhal muri wala walks down the traffic, crisscrossed by the shrill whistle of the uniformed man.The dying light glints from the rear view mirror of a car. A smell wafts down the lane from the tandoor in the corner. Black bits of ash fly as coals turn red.Twilight comes down as shreds over the city, slowly. Footsteps grow quicker, the whistles shriller. The traffic spills like tentacles over the lanes and by lanes. The girl tries to put her bananas back into the basket. The mother is there, perhaps, somewhere. A group of students pass by, the cigarette tips glowing in the descending darkness.

The street lights blink to life.Shadows glide over the rain washed tar.The chants from a near by temple moves into the road, mingling with the smell and chaos of the street.Rock blares from the Maruti 800 that finally manages to whoosh past. The meat-seller throws away the rest of the debris to the dogs and washes his blade. The girl walks away with the basket stapped on her head.The red skirt seems to catch fire in the halogen lights.

 

Leave a comment

Filed under Memoirs or Fiction?

Muniba Mazari- I had not heard of the name till a friend of mine shared a TED talk. One reason for such ignorance is definitely my laziness and lack of knowledge regarding most things while another reason can be that the news from the bad neighbor Pakistan is hardly our national staple.
At the age of 21, when Muniba was travelling to her hometown Rahim-yar-Khan, she met with a fatal accident, the car had rolled to a ditch as the driver dozed off, that broke almost half her bones. Finding no ambulance in Baluchistan, she had to be taken to a hospital in a Pontiac. The first hospital refused her as they had no first aid and then she was taken to another hospital where the doctors didn’t have the infrastructure to operate upon such multiple injuries. Then after a painful stay for about two and a half months in a hospital in Karachi, she came home to be bed-ridden for the next two years!
Muniba didn’t mince words to express that agonizing period of her life;the desertion by the closest people, the mental pain and the physical injury. Despite all these, she survived and not just survived, she lived. Now she paints and she told that painting kept her alive in those darkest times.Then for financial independence, she started content writing and then she climbed the steps of success to become the first Pakistani model on wheelchair for brands like Tony and Guy. Her face gleamed as she shared how she rebuilt her life. Her optimism is infectious and inspiring. We feel nothing can stop us and she does say  that nothing can stop us, and we cheer.

Muniba went ahead and told that those to feel caged and blame the society and system for not being able to live their life as they should have, were just making excuses for their inability to overcome the difficulties. If she could live inspite of multiple fractures in her spine, collarbone, ribcages, then anyone can overcome their difficulties.And it is here, I pause. No, Muniba, all cannot overcome their difficulties.

What if Muniba didnot know how to paint?What if Muniba didnot have the money to get treated in a hospital in Karachi?What would she do then? If those terrible terrible two and a half months had to be spent in a general ward of a government hospital, would she be able to paint those wonderful paintings then? If Muniba were not surrounded by bouquets of flowers bearing messages “Get well soon” and instead had to look helplessly as flies would buzz around her wounds, would she still have the insane mental determination that made her come out victorious?

Muniba now models for Tony and Guy, she is one of the fortunate Ponds’ Miracle Woman. Miracle indeed she is, to win the battle that chance made her fight and very few can do what she did. But would Tony and Guy still cast her if she wasn’t as beautiful, let us say she was one of the dark skinned Gond lady from India or a burqa clad child bride from a village in Pakistan.

When Muniba told that one should not blame the system or one’s fate for not being a survivor as she is, she forgets that the same system  has provided her with the basic conditions by virtue of her birth that made her Muniba Mazari with a wikipedia page. And we all, who are beneficiaries of such conditions, do not realize the benefit of being in the affluent side of biological accident.

I, sitting in an Indian Institute of Technology, do not have a right to tell that the poor girl Chattishgarh is not here because she is not intelligent or has not tried hard enough.She is not here because We have robbed her the right to primary education. And on that deprivation we are building the mansion of middle-class dreams.We cannot ask for the scrapping of caste based reservation in India because in Tamil Nadu, in Hyderabad we are silently killing Rohit Vemullas. We kill them for their opinions, we kill them for their marriages, we kill them because we feel they do not matter to us. And this murder comes to naturally to us that we don’t even recognize ourselves in the milieu of killers.

We denigrate Bangladesh, disparaging Pakistan has become ablutions for our souls, which we claim to have. But when thousands of our fellow citizens are pushed into detention camps along the eastern border of India, we do not flinch. When a son commits suicide because he failed to save his mother from being ripped of her citizenship, we are not moved because we have the 12 digit ‘Legacy’ data that ensures our citizenship in India. Deaths do not touch us. The naked procession in Manipur doesnt perturb us because we donot stay in a place infested with the Army.That is why AFSPA is irrelevant to us, we forget Manorama, we forget Kunan Poshpora.

Our parents hoped “amar sontan jeno thake dudhey bhaate”, may nothing be wanting for my child. Nothing is wanting for us except the conscience that tells us that our food often comes from those who make millions starve somewhere, all that we claim as ours is often wrongfully snatched from others who right now are dying, somewhere and we are complicit in those killings. What we take as our rights are privileges for most and we cannot forget that.

While we commend Muniba, we should for once atleast, pause and ask what happened to the driver of her car.

Leave a comment

Filed under Memoirs or Fiction?

Not a love letter

Dear You,

Surprise! An email after a long time.Actually since the day we have started staying together (see, I did not tell,’since we married”, you should be happy 🙂 ), we have been in such close proximity that refers any form of written communication,other than those instant messages as redundant.

So, after years (even a few years seem ages) of invading each other’s space physically and emotionally, here I am, separated from you by miles, stranded in a village hidden somewhere inside a jungle of Orissa. The road that was supposed to bring me to you in two days, has been destroyed by the hurricane.There is no power supply in the guest house and the laptop battery is rapidly draining, the phone is already switched off. The caretaker cum chef cum orderly did place a candle that it attracted a halo of insects till it was blown off by the raging wind.I am just too lazy to shut the window.The only thing that i can do now is to write all those which I wanted to tell you but could never say.

First thing first, apologies for writing it in English. I have two good excuses for doing it so. The practical reason is typing using avro keyboard will consume more time and hence limit my time of writing:courtsey, the low battery;the pragmatic reason is that English spares me from the bangla spelling mistakes which you detest and trust me I need you to read it till the very end.

Second thing, please do not try to draw a parallel with you favorite old man’s “Streer Potro”. You had made me trudge through it with my pathetic bangla and i know how much you love it. In fact sometimes you do behave like Mrinal and you know that I admire you for it (I can almost you see smile now).Infact, it was probably this fierce nature of yours that made me fall in love with you.But i did not like it, in fact i found it very irrelevant in today’s context and could never understand your fascination with either that old man or his “Streer Potro”. I never said it then for the fear of infuriating you or hurting you, but I had attributed it to your brand of feminism which I never liked. A lady of your intelligence and ability, stating that women are oppressed, “historically”, seemed like an oxymoron to me. In fact like cliched debating points, I felt that your ability to express this shows that you aren’t oppressed. You termed me as naive and many a times tried to chide me and show me your reason and often what you termed as “ground reality” but I never paid much of an attention and after a certain point you did not try anymore.Was that the point when we stopped communicating? May be, but I never noticed and I am sure that even you did not.

You are intelligent, independent and also beautiful. In fact all that a person wants and I won’t pretend that I am anything different from others. But soon, your independent nature and the casual disregard for usual norms that amused me began to trouble me.I had somehow hoped that once ‘settled’, you would drop all your “biplobi” ideas and  into the perfect family picture that I have been striving to create all my life. But nothing of that sort happened. I can never complain that you weren’t attentive to your duties, in fact you performed those meticulously;but there were small things which you did that created ripples in the family.Like you remember the time when we travelled all the way to my grand-parent’s house to celebrate durga puja? There you gently corrected Boro-Mamima every time she called you mejo-bou. You never came to know that your insistence to be called by your name had turned to a joke during the pujas. I could never bring myself to tell you that because the desire to be called by your name is so natural to you that you cannot think anything otherwise.I did feel bad when others smirked as they called you by your name.I had found it very inflexible of you.What hell would have broken loose if they had called you mejo-bou for those few days! I never felt anything abnormal when anyone addressed me as ‘Boro Jamai’ when I went to your house. Infact there have been times when I did feel that you, all of you, were overly sensitive to pick and spin problems where none existed just to perpetuate your idea that you have been subjugated oppressed and repressed for ages. Those were the times when I could almost feel our relationship tottering precariously over a cliff.But then again there were moments when with a tea cup in your hand, your face awashed in the evening glow, you continued to speak and listen about everything under the sun. That soft light and the laughter in our voices made me feel that it was worth the effort to make it work. At those moments I could have fought against the world to hold you in my arms and just look at you.

Oh by the way, I have brought you a sari from the village market. I’ll have to remember to pack it, you know I forgetful I tend to be. I am sure you will like the rustic coarseness of the sari. You always loved the coarseness of jute and earthy colors as opposed to the glamour of chiffon and silks. How can one forget the attention you had drawn to yourself when you turned up at Tutul’s marriage ceremony in a simple jute silk with terracotta jewellery amidst all the glitter of silk and golds. You looked attractive. I felt so proud when people  admired you.But then the barbs that I had to endure! In fact not just that day, from the beginning of Tutul’s marriage planning, you have been opposing all that had been going on. The day you had stormed at that doctor guy who had remarked that she was darker than they expected, Pishima had pulled me aside and pleaded me not to bring you along next time,”Such modern girls aren’t suited in such situation”. That is why i made excuses and did not attend any other such meetings.How angry you were at what you deemed as my ‘lack of responsibility’. I could never tell you the truth, you loved Pishima and Tutul so much that I did not have courage to inflict that sadness upon you.

But your anger did not last long as the news of one of your articles getting published in Desh came to us.You had not been writing for a long time, just more than a couple of months. In fact when you started writing, I am almost relieved thinking that now only pen and paper shall have to  bear the brunt of your ideas. I shall be left at peace in my own cocoon of middle class safety to deal with the situations and I knew you loved me so much that generally gave in to my way of doing things even if they did not agree with your thoughts and I had immense faith on that love.But how foolish I was to think that all that was written in paper shall not come to haunt me, haunt us.In the party that I insisted on throwing celebrating the occasion, when you were busy gossiping with all boudis and didis, I had to pull a stoic face and stand all jibes.”Benefits of having a progressive wife is definitely more than such parties,eh?”,”we envy your luck, not a single dull moment”.The whisky burnt my throat and I lashed out at you.You went to the balcony and cried.I had spoiled your happiness.Perhaps that was the moment when you started hating me.You never told me, but I could feel your resentment in your compliance. Silently, but firmly you had shut me out of your life. I never knew what you thought anymore.Your writings-they never leaped out of the leather diary anymore. Did you publish? I knew you did, but you did not tell me anymore and all that you published were never the fiction that you always aspired to write.

You might wonder today, why I am writing this. This is perhaps my way of apologizing for those numerous times when I have failed you. My failure wasn’t because I did not love you enough or I did not respect the choices you made.My failures were because I wanted to live an easy life, I had no courage to test the ideals that we revered or at least pretended to revere.My failure was because I did not have the courage to love you as fiercely as you loved me.

I wish I could write longer, but now words fail me and the battery shall soon follow suit.

Lots of love.

3 Comments

Filed under Memoirs or Fiction?