Monthly Archives: October 2014

Blue Mountain

“Jamaican blue mountain” নামটা কেমন? শুনলেই মনে হয় না যে একটা মারটিনি গ্লাসে হাল্কা নীল রঙের একটা পানিয়, গ্লাসের কিনারে কায়দা করে লাগান একটা পাতিলেবুর চাক্তি।মারটিনি গ্লাসে গভীরতা কম,তাই স্ত্র মানায় না, নইলে একটা জাপানি ছাতার মত কাগুজে ছাতা আঁটা একটা স্ত্র ও দেয়া যেত।ঠিক টি ভি তে যেমন টা দেখা জায়,তেমন। একটা সুসজ্জিত দোকান।দেওয়াল যে ব্রিক-ফিনিস।ছোট বেলা শুনত যে দেওয়ালে পলেস্তারা দিতে পারা টা ছিল সচ্ছলতার লক্ষণ, আজকাল কিন্তু পলেস্তারা খশে যাওয়া ‘লুক’ টাই আভিজাত্যের পরিচয়।লেদারে মোড়া অর্ধ-গোলাকৃতি সোফা, সাথে নাগা কাজ করা মোড়া, কাচের টেবিল।মৃদু আওয়াজে ইংরেজি গান।গানের শব্দ গুলো ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।

ওই তো একটা মেয়ে দরজা টা ঠেলে ভেতরে ঢুকছে।সাথে কে? ছেলে টা কে সাথে?বেশ চিন্তিত চেহারা দুজনের।অত চিন্তিত মুখে কেউ কফি খেতে আশে,তাও এই দেওয়ালীর বিকেলে! না কি-

তন্বী পরিচারিকা ট্রে হাতে এদিকেই এগিয়ে আসছে।আচ্ছা,waitressএর বাংলা কি পরিচারিকা?পরিচারিকা বললেই যে তেলচিটে শাড়ি, নখের কোণে জমা হলুদ, ছেরা হাওয়াই পরে ঘষটে ঘষটে হাঁটা একটা চেহারা মনে হয়। কি ব্যাপার! ট্রে তে একটা কালো তরল ভরা একটা অদ্ভুত দেখতে জিনিস কেন। ওই নীলাভ কিছু তো নেই। “blue mountain”, নিজের মনেই নাম টা আরেকবার আউরাল, নাহ, এই তো নীল শব্দ টা আছে, তারপরেও এত কালো কেন।কোন পাতিলেবুর টুকরো ও তো নেই। ওটা নিশ্চয় ওই পাশের টেবিলের মেয়েটির জন্য। বড্ড শখ এই দিন ওই হিন্দি সিনেমার মত কায়দা করে ওই সবে চুমুক দেবে।দিশি জিনিসে বড্ড গন্ধ, প্রথম প্রথম গা গুলিয়ে আসত, কিন্তু ইদানিং অভ্যেস হয়ে গেছে।বিলিতি কি আর রোজ জুটে। আজকেই যদি নিজের পকেট থেকে টাকা দিতে হত তাহলে কি আর আসত ও।

সুন্দরী ‘পরিচারিকা’ এসে মিষ্টি হেসে সামনে ট্রে টা নামিয়ে রাখল। “your coffee Sir”। সযত্নে লালিত নখের আঘাতে টুং শব্দ উঠল কাচের কাপ থেকে।লোকটা এত অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে কেন! যা অর্ডার করেছিল টাই তো দেওয়া হল।নাকি মেনু কার্ড টা ভাল করে না পরেই অর্ডার করেছিল!এদের মত মানুষের জন্যই তো প্রতি টা বিষয়ের নিচে একটা বিবরন দেওয়া আছে।লোকটা কি পরেনি যে “Jamaican blue mountain” হল একটা হাল্কা মিষ্টি স্বাদের কফি।অভ্যস্ত হাসি টা নির্বিকার রেখেই মেয়ে টা ফিরে গেল।কত লোকের কত কাণ্ড।

ধুর, আজও যদি খাওয়া না হয়, তাহলে তো আর হলই না। টেবিলের উপর রাখা মেনুকার্ড টা আবার পরল, ভুল টা কোথায় করল ও।নতুন সাদা শার্ট টার বুক পকেটে হাত দিল, চশমা চাই।মনে পরল আজকে চশমাটা রুমে ফেলে এসেছে।রাস্তায় কোনও অসুবিধা হয়নি, ওই প্লাস্টিক টাও ঠিক বাইরে মলে দখার ঠিক মুখটায় রাখা আছে। অর কাজ এত টুকুই।তারপর অপেক্ষা করা।স্যার বলেছেন এই দোকানেই অপেক্ষা করতে।রাস্তায় আটকা পরেছেন, পউছোতে অল্প দেরি হবে।কিছু খাবার ইচ্ছে হলে বলে দিতে।ইচ্ছে তো ছিল ওই মারতিনি গ্লাসে কিছু একটা খাওয়ার।কাচের শো-কেসে গ্লাস গুলো ও দেখা যাচ্ছে।গ্লাস গুলো কে যে মারতিনি গ্লাস বলে টা গতবার স্যারের সাথে এসেই শেখা।তখন যদি ওই পানীয়র নামটাও শিখে রাখত তাহলে এখন এই বিস্বাদ কালো কফি খেতে হত না।

৫ঃ৩০।আরও আধ-ঘন্টা বাকি।তারপর কাজ কম্ম শেষ করে ফেরার পথে নাহয় কিছু বাজি কিনে নেওয়া জাবে।রাত্রে পোড়াবে,দেওয়ালীর দিন বাজি না পোড়ালে যেন ঠিক মন ভরে না।অল্পই কিনবে,চাকরি টা তে টাকা খুব একটা বেশি না, অবশ্য বেশি দিন ও হয়নি, মাস খানেক।স্যারের আরও অনেক ব্যবসা আছে, বলবে নাকি অন্য একটায় ঢুকিয়ে দিতে, এই প্যাকেট আনা-নেওয়ার কাজ ঠিক পোষাচ্ছে না।

আর পনের মিনিট।একঘেয়ে লাগছে বসে থাকতে।টি ভি তে পুরনো IPL চলছে। ধোনির মারকাটারি খেলা দেখতে খুব ভাল লাগে।আর ওই চার-ছয় মারার পর নাচ দেখা যায়,ওটাও মজা লাগে।

আর দুই মিনিট, স্যার কখন দেরি করেন না। অল্প সময় পরেই ছুটি পেয়ে যাবে।ফেরার পথে একটু মাংস নিয়ে যাবে নাকি, অনেক দিন খাওয়া হয় নি।গলির মোড়ের দোকানটায় খুব ভাল বানায়।

ঠিক ৬ টায়, শহরের সবথেকে বড় মলটা একটা বিশাল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল।modus operandi:প্ল্যাস্টিকে মোড়া বিস্ফোরক। সরকার ঘোষণা করল মৃতদের পরিবার কে এক লক্ষ ও আহতদের পঞ্চাশ হাজার ক্ষতিপুরণ দেওয়া হবে।

Leave a comment

Filed under Memoirs or Fiction?

As Time Goes By

When you take the turn, keeping that huge three storey building on your right, a darkness generally hits your face and if you are not too careful, you may stumble upon the numerous stones, of various sizes that remain scattered on the road.The pitch smoothness of the road suddenly gets lost here, as if the road-maker suddenly changed his mind about this part of the world and went away like the kid who blissfully forgets his playthings half-way into the game.There are no streetlights there, the glow from the proud lamp-post that stands on the smoother section of the road increases the darkness, casting a jaundiced look in the entire landscape.No, it is not even a proper landscape.Many stories get created in this part of the world, but here, none. A hill stands here with a leper-ish look, its face disfigured by the claws of mud-cutting JCBs.The undergrowth is filled with rubble and rubbish.The stray dogs of the campus snuggle here when they are shooed away from the more inhabitable places by those who need them when the darkness descends.There is a water-tap that no one bothers to turn off.The sound of water spattering the stone here bears an uncanny resemblance with the sound of sadness.This is because sadness resides here.
Two figures move along the road.The flickering light bulbs that hung limply in the ramshackle bamboo structures causes their shadows to glide over the already darkened face of the inhabitants.They walk along the road, oblivious to the crunching of sand and stone chips beneath their feet, oblivious of disrupting the spiraling smoke from the four-walled structures that have been made to ensure that it does not reach the part where they mingle with the odor of Axe and Giovanni that entwine to shame the compulsory flowerbeds that exist.
A tune of a lecherous song sears the silence that is created by the sound of daily chores that spill out through the gaps in the bamboo-walling where the newspaper packing have fallen away.There is a rustle and shifting caused as the shadows precede the walking figures.They keep walking.
A few dogs bark halfheartedly, disturbed in their solitude by two human forms transgressing the territories.
They keep walking.
The girl who sat tired outside her room for respite from the heat saw them moving away, just like she sees so many of them walking everyday as she gets ready to work.In the evening so many of them walk through these pathways,every evening.
This path is the shortcut way to reach the European looking winding roads that snake through the uneven geography of the campus.
They too reach the path where the black and white stripes of the road welcomes them like is has been welcoming people who stepped out of that rubble-strewn way since the day it was made.A smile now lightened their eyes that till then was concentrated on the road below to make out the pitfalls that line that darkened alley.The voices till then muffled by the thought of people being in earshot now bubbled like the champagne with the cork just off.They could see other people sitting on the boulders lining the road side and they felt alone, finally, in the comfort of those that they ‘knew’. There was no rustle here, no moving shadows giving away the existence of the souls, no phrases flying out to hit the ears unexpectedly. Everything is measured here, the light, the darkness, and even the sound of silence.
The footsteps relaxed to a slow walk.The path is beautiful.Time can be extended.
They look at each other, a happiness laces the look.
The pale moonlight creates a magic that dances in the eyes.
“Perfectly poetic”.
The moon looks down and yawns,’the same old story’.

Leave a comment

Filed under Memoirs or Fiction?